দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অস্কারজয়ী আইরিশ অভিনেত্রী ব্রেন্ডা ফ্রিকার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ১৯৮৯ সালের মাই লেফট ফুট চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কার জিতেছিলেন তিনি। এছাড়া হোম অ্যালোন ২ এবং বিবিসির জনপ্রিয় মেডিকেল ড্রামা ক্যাজুয়ালটি-তে অভিনয়ের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিলেন এই অভিনেত্রী।
ব্রেন্ডার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তার এজেন্ট ফিল বেলফিল্ড। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "তার মতো আর কাউকে আমরা দেখব না। তাকে হারিয়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জগৎ আরও দরিদ্র হয়ে গেল।"
১৯৯০ সালে মাই লেফট ফুট ছবিতে ড্যানিয়েল ডে-লুইসের মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রীর অস্কার জেতেন ব্রেন্ডা। এর মাধ্যমে তিনিই প্রথম আইরিশ অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি অ্যাওয়ার্ড জয়ের ইতিহাস গড়েন।
চলচ্চিত্রটিতে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত আইরিশ শিল্পী ক্রিস্টি ব্রাউনের জীবনকাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল। ড্যানিয়েল ডে-লুইসও এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার অস্কার পান।
১৯৮৬ সালে বিবিসির দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় সিরিজ ক্যাজুয়ালটি-র প্রথম পর্ব থেকেই নার্স মেগান রোচ চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন ব্রেন্ডা। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত নিয়মিত অভিনয়ের পর বিভিন্ন সময়ে আবারও সিরিজটিতে ফিরে আসেন। সর্বশেষ ২০১০ সালে তাকে এই সিরিজে দেখা যায়।
১৯৯২ সালে হোম অ্যালোন ২: লস্ট ইন নিউইয়র্ক ছবিতে সেন্ট্রাল পার্কের 'পিজন লেডি' চরিত্রে অভিনয় করে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছেও জনপ্রিয়তা পান তিনি। এছাড়া So I Married an Axe Murderer, Angels in the Outfield, A Time to Kill এবং Veronica Guerinসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
তবে অস্কার জয় তার ক্যারিয়ারের জন্য সবসময় ইতিবাচক হয়নি বলে মনে করতেন ব্রেন্ডা। ২০২৪ সালে দ্য টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, অস্কার পাওয়ার পর অনেক নির্মাতা তাকে একই ধরনের চরিত্রে সীমাবদ্ধ করে ফেলেন। এমনকি থিয়েটারেও অনেক সুযোগ হারিয়েছেন। মজা করে তিনি বলেছিলেন, "অস্কারের সঙ্গে অন্তত কিছু অর্থও দিলে ভালো হতো।"
ব্রেন্ডার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন আয়ারল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস। তিনি বলেন, "ব্রেন্ডা ছিলেন জাতীয় সম্পদ। অসাধারণ প্রতিভা ও স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি চরিত্রে গভীরতা ও মানবিকতা এনে দিতেন।"
আয়ারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এডওয়ার্ড ওয়ালশও তাকে "আইরিশ চলচ্চিত্রের এক মহীরুহ" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
২০২৫ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে ব্রেন্ডা ফ্রিকার নিজের জীবনের নানা কঠিন অধ্যায়ের কথাও তুলে ধরেন। শৈশবে পারিবারিক নির্যাতন, কৈশোরে যৌন নিপীড়ন এবং নানা ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির কথা জানালেও তিনি বলেছিলেন, জীবনের অনেক ঘটনাই ছিল "সৌভাগ্যজনক দুর্ঘটনা", যা তাকে অভিনয়ের পথে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/